Published : 04 Aug 2026, 05:16 AM
শ্রীমঙ্গল পৌর শহরে চা-বাগানে ছেড়ে দেওয়া গবাদিপশুগুলো প্রায়শই শহরের পথে পথে ঘুরে বেড়াত। এই অবাধ চলাচলের ফলে যানজট সৃষ্টি হতো, বাজারে সবজি নষ্ট হতো এবং বাসাবাড়ির গাছপালা খেয়ে ফেলার অভিযোগ নিয়ে নগরবাসী চরম দুর্ভোগ পোহাতেন। এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সোমবার পৌর কর্তৃপক্ষ একটি অভিযান পরিচালনা করে তিনটি গরু আটক করে। পৌরসভা সূত্রে জানা যায়, আটককৃত তিন গরুর মধ্যে দুটির মালিক শহরের পাশের ভুরভুরিয়া চা-বাগানের বাসিন্দা দুরপতি রবিদাস ও মানিক রবিদাস। তৃতীয় গরুর মালিকের নাম জানা যায়নি। দীর্ঘদিন ধরে এই গরুগুলো শহরে অবাধে ঘুরে বেড়ানোর কারণে নাগরিকদের ভোগান্তির অভিযোগ ছিল। প্রায় প্রতিদিনই এ গরুগুলো বাড়ির উঠানে ঢুকে ফুলের গাছ, ফলের গাছ এবং অন্যান্য শোভাময় উদ্ভিদ ধ্বংস করত।
অনেক সময় বাড়ির গেট খোলা থাকলে তারা আরও গভীরে প্রবেশ করত। পৌরসভার এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানানো হয়েছে। অলক দেবনাথ, শ্রীমঙ্গল পৌরসভার বাসিন্দা, জানান, শহরের অবাধে গবাদিপশু ছেড়ে দেওয়ার কারণে দীর্ঘদিনের ভোগান্তি পোহাতে হতো। তিনি বলেন, "নিয়মিত এই ধরনের অভিযান চালানো হলে শহরবাসী অনেক স্বস্তি পাবে।" অভিযান চলাকালীন স্থানীয় বাসিন্দারা আরও জানান, গত কয়েক দিনে শহরের বিভিন্ন এলাকায় ৮ থেকে ১০টি গরু দুই বা তিনটি দলে বিভক্ত হয়ে রাস্তা, বাজার ও আবাসিক এলাকায় ঘুরে বেড়াচ্ছিল। এর ফলে একদিকে যেমন যান চলাচলে বাধা সৃষ্টি হচ্ছিল, তেমনই অন্যদিকে এসব পশু বাসাবাড়িতে ঢুকে ফুল ও ফল নষ্ট করছিল। এছাড়াও, কিছু ক্ষেত্রে গরুগুলো দোকানের সামনে মলমূত্র ত্যাগ করত এবং শহরের আবর্জনার স্তূপে মুখ ঢুকিয়ে ময়লা ছড়িয়ে পরিবেশও অগোছালো হয়ে উঠছিল।
এই সমস্যাগুলো প্রধানত স্টেশন সড়ক, নতুন বাজার এবং ডাকবাংলোপাড়া এলাকায় বেশি দেখা যেত। আটককৃত গরুর মালিকেরা জানান, তারা গরুগুলো চা-বাগানে ছেড়ে দেন, কিন্তু ইদানীং তারা শহরে চলে আসে। আটককৃত মানিক রবিদাস বলেন, "আমরা প্রতিদিন গরুগুলো চা-বাগানে ছেড়ে দিই। কিন্তু কীভাবে তারা শহরের ভেতরে চলে আসে, তা বুঝতে পারিনি। পৌরসভার অভিযানের পর আমরা বিষয়টি গুরুত্ব দিয়েছি এবং ভবিষ্যতে গরুগুলোকে আরও সতর্কতার সঙ্গে দেখাশোনা করব ও বেঁধে রাখার ব্যবস্থা করব, যাতে এগুলি আর শহরে প্রবেশ করতে না পারে।"।
প্রাথমিক শিক্ষায় নতুন দিগন্ত: নীতিমালা ও বেতন কাঠামো নিয়ে প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজের বক্তব্য